বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শ্রীনগরে টাকা চুরির অপবাদে সিংপাড়া চাঁন মাস্তান মাজারের খাদেমকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ মার্চ বুধবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার সিংপাড়া বাজারের মাজার কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আজিজুল হক (লেবু কাজী) মাজারের খাদেম মোঃ বেনু শেখ (৬৫) কে মাজারে রক্ষিত সিন্দুকের টাকা চুরি করার অভিযোগ বেদম মারধর করে। এনিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১৫ মার্চ বিকালে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মাজারের বাৎসরিক ওরস শেষে সিন্দুকের টাকা খাদেমের কারসাজিতে চুরি করা অভিযোগ এনে মাজার কমিটির সভাপতি ও তার ছেলে মনু কাজী সিংপাড়া বাজারের একটি ঘরে আটক করে তাকে মারধর করে। এ ব্যাপারে মাজার কমিটির সাবেক যুগ্ন-সম্পাদক আমিনুল হক, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন সহ অনেকে বলেন, সিন্দুকের চাবি মাজার কমিটির সভাপতির কাছে থাকে। তাহলে খাদেম কিভাবে টাকা চুরি করলো এটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের জানামতে গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার টাকা বেশী উঠেছে বলে আমরা জানি। বর্তমান খাদেম বেনু শেখ ১ বছর যাবৎ মাজারের খাদেম হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ এযাবৎ আসেনি।
মাজারের খাদেম মোঃ বেনু শেখ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দয়াল চাঁনকে ভালবাসি তাই খাদেমের দায়িত্ব পালন করি কোন বিনিময়ের জন্য না। কিন্তু সিন্দুকের টাকা চুরি করার মিথ্যে অভিযোগে সভাপতি ও তার ছেলে আমাকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করেছে। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বিচার চেয়েছি।
মাজার কমিটির সদস্য ও সভাপতির ছেলে মনু কাজী এবিষয়ে বলেন, আমার জানামতে খাদেম চুরি করেনি তবে চুরি করার জন্য অন্য কাউকে সহযোগিতা করে থাকতে পারে। সিন্দুকের চাবি আমার বাবার কাছে থাকে। গত বছর ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উঠে ছিল। এবছর গতবছরের তুলনায় ৬ হাজার টাকা বেশী উঠেছে। তাহলে খাদেমকে টাকা চুরির অভিযোগ এনে তাকে মারধর করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনু কাজী নীরব ভুমিকা পালন করেন। কিন্তু খাদেমকে মারধরের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবী করেন।
তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন জানান, মাজারের খাদেম আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাকে বিষয়টি বাজার কমিটির মাধ্যমে সমাধান করার কথা বলেছি। তবে তারা যদি বিষয়টি সুরাহা না করে সেই ক্ষেত্রে বিষয়টি আমি দেখব। তাছাড়া স্থানীয় লোকজনদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মাজারের খাদেম ভাল লোক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সত্যি নয়।